KADHURKHIL UNITED MUSLIM HIGH SCHOOL REUNION - 2013
বিজয়ী বীরকেই মানুষ সালাম করে। ক্লাসে ১ম হওয়াটা এমনই এক বিজয়। ক্লাসে ১ম হওয়া আর ভালো রেজাল্ট করার জন্যে বিশেষ মেধার কোনো প্রয়োজন নেই। নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা না করেও ক্লাসে ১ম হওয়া যায়। ক্লাসে ১ম হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে আপনি পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে পারবেন যদি আপনি বিশ্বাস করেন।
Sunday, March 31, 2013
Friday, March 29, 2013
Sunday, March 24, 2013
আপনিও পারেন
শান্ত সবুজ এক ছোট্ট গ্রাম। মাঠভরা ফসল, গোয়ালভরা গরু আর উঠোন ভরা
হাঁস-মুরগি নিয়ে সচ্ছল গ্রামের প্রতিটি ঘর। এ গ্রামেরই এক গৃহস্থের বাড়িতে
একবার এক মুরগি তা দিয়ে ফুটালো অনেকগুলো ছানা। কিন্তু একি! মুরগিছানাদের
সঙ্গে ডিম ফুটে বেরুনো ঐ কিম্ভুতকিমাকার ছানাটি কেন? দেখতে হাঁসের মতো।
কিন্তু কী কুশ্রী আর কদাকার! কী করে এলো এখানে? কেনই বা সে অন্যদের চেয়ে
আলাদা? গৃহস্থ বাড়ির একচিলতে উঠোনে জীবন শুরু হলো তার। কেউ তাকে ভালবাসে
না। সুযোগ পেলেই ছোট ছেলেমেয়েরা খোঁচায়, মুরগীছানারা তাড়া করে, কাক ভয়
দেখায়। খাবার তার আবর্জনা আর গৃহস্থের ফেলে দেয়া ঝুটাকাঁটা, তা-ও বাকিরা
খেয়ে যাবার পর যা পাওয়া যায়। একমাত্র আপন তার মা- মা মুরগী। সব ঝড়ঝাপটার
মধ্যেও এই মায়ের কাছেই খুঁজে পায় একটু আশ্রয়। এভাবেই চলছিলো জীবন।
আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠছে সে। মাঝে মাঝে সে অনুভব করতো জোরে দৌড়াতে গিয়ে সে যেন খানিকটা ভেসেও যেতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে আর কোনো মাথা ঘামায় নি সে। একদিনের কথা। কোনো কারণে সব মুরগিছানারা মিলে তাড়া করলো তাকে। প্রাণপণে ছুটতে ছুটতে গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে এক হ্রদের ধারে গিয়ে থমকে গেল সে। এখন কী করবে সে? আর একটু এগোলেই যে হ্রদে পড়ে যাবে। কিন্তু সে তো কখনো পানিতে নামে নি। পেছানোরও কোনো উপায় নেই। এদিকে তার মা-মুরগিও পেছন পেছন ছুটে এসেছে। হঠাৎ দৃষ্টি গেল ঐ পাড়ের এক ঝাঁক হাঁসের দিকে। কি আশ্চর্য, হুবহু তার মতোই দেখতে! অবাক বিস্ময়ে সে একবার তাকাচ্ছে ঐ হাঁসদের দিকে, একবার তার মায়ের দিকে আর একবার হ্রদের পানিতে তার প্রতিবিম্বের দিকে। সে-তো তার মায়ের মতো নয়, নয় এতদিন যাদের সাথে কাটিয়েছে সেই মুরগিছানাদের মতো। বরং মেরুদেশ থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা ঐ পরিযায়ী পাখিদের একজন সে। শীর্তাত পরিবেশ থেকে বাঁচতে নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে উড়ে আসা এক মা-পাখির ডিম থেকে ঘটনাচক্রে তার জন্ম হয়েছিলো ঐ গৃহস্থের বাড়িতে। কী অবলীলায় হাসঁগুলো উড়ছে, জলে নামছে! সে-ও তো তাই পারে! বুঝলো সে এই তাড়া খাওয়া, আবর্জনা খুঁটে খাওয়ার জীবন তার নয়, নীল আকাশের উচুঁতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দেয়ার দৈহিক সামর্থ্য নিয়ে জন্মেছে সে।
প্রথমবারের মতো নিজেকে জানলো সে। বুঝলো গৃহস্থের উঠোনের ক্ষুদ্র গণ্ডি ছেড়ে তাকে উড়াল দিতে হবে অনন্ত আকাশে। দুফোঁটা চোখের জল ফেলে মা-মুরগিও তাকে বিদায় জানালো। কারণ ক্ষুদ্র মমতার বন্ধন দিয়ে সে তার ছানার সম্ভাবনাকে গণ্ডিবদ্ধ করতে চায় নি। নভোনীলিমায় ডানা মেলে দিলো হাঁসছানা আত্ম-আবিষ্কার আর আত্ম পরিচয় সৃষ্টির নতুন অভিযাত্রায়। এ হাঁসছানার জীবনের সঙ্গে আপনিও হয়তো মিল খুঁজে পাবেন। ছোটবেলায় হয়তো ভালো রেজাল্ট করতেন। কিন্তু একসময় খারাপ করার পর থেকে নিজেকে খারাপ ছাত্র-ছাত্রীদের দলেই মনে করতে লাগলেন আপনি। মা-বাবা শিক্ষক বা আত্মীয়-বন্ধুদের নেতিবাচক কথায় প্রভাবিত হয়ে হয়তো ভাবতে বসলেন, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। আর কখনো ভালো করতে পারবো না। অথচ আপনিও ক্লাসে প্রথম হতে পারেন, পারেন গোল্ডেন এ+ পেতে, পৃথিবীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে। পেশাজীবনে যেকোনো আপাত উঁচু লক্ষ্যে পৌঁছুতে। যুক্তিসঙ্গত প্রতিটি চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে। কীভাবে, তা-ই বিবৃত হয়েছে এখানে।
ভালো রেজাল্ট করাটা খুবই সহজ। করতে চাইলেই করা যায়। এজন্যে জিনিয়াস হওয়ার প্রয়োজন নেই। অসাধারণ মেধাবী বা শ্রুতিধর হওয়ার দরকার নেই। গণ্ডায় গণ্ডায় প্রাইভেট টিচার বা ভালো স্কুল কিংবা ধনী বাবা-মায়ের সন্তান হওয়াও ভালো রেজাল্টের শর্ত নয়। ভালো রেজাল্টের জন্যে প্রয়োজন মাত্র দুটি জিনিস। এক- আত্মবিশ্বাস, দুই- অদম্য ইচ্ছা।
বিশ্বাস হচ্ছে না? একটা উদাহরণ দেয়া যাক।
ড. বি আর আম্বেদকর। জন্ম ১৯ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক দলিত পরিবারের ১৪ নম্বর সন্তান হিসেবে। অস্পৃশ্য হওয়ায় স্কুলে তাকে বসতে হতো ক্লাসের বাইরে বারান্দায়। এমনকি তেষ্টা পেলে স্কুলের উচ্চবর্ণের দপ্তরীটি ছোঁয়া বাঁচিয়ে ওপর থেকে পানি ঢেলে না দেয়া পর্যন্ত পানি খাওয়ার অনুমতিটুকুও ছিলো না তার। এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে ১৯ মাইল দূরের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝপথে গাড়োয়ান তাকে গরুর গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছিলো অস্পৃশ্য হয়ে গাড়িতে ওঠার অপরাধে।
এতকিছুর পরও হার মানেন নি। দারিদ্র্য আর রোগ-শোকের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে যাওয়া মাত্র ৫ ভাইবোনের ১ জন ছিলেন তিনি এবং একমাত্র তিনিই পেরোন হাইস্কুলের গণ্ডি। ভারতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম দলিত সম্প্রদায়ের সদস্য যিনি কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ও লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে আইন ও অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রিসহ অর্জন করেন কয়েকটি ডক্টরেট।
দেশে ফিরে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীর পাশাপাশি তিনি হয়ে ওঠেন সমকালীন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। দলিত সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে জীবনকে উৎসর্গ করেন। স্বাধীন ভারতের সংবিধান প্রণয়নের গুরুদায়িত্ব পালন করেন উদার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যা অর্জন করে সবার সপ্রশংস সমর্থন।
বাবা আম্বেদকর নামে ভারতবর্ষে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বজনশ্রদ্ধেয়। প্রতিবছর তার জন্ম, মৃত্যুদিবসে হাজারো মানুষ সমবেত হয় তার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবার উদ্দেশ্যে।
আপনার অবস্থা নিশ্চয়ই বাবা আম্বেদকরের চেয়ে খারাপ নয়। তাহলে আপনি কেন পারবেন না?

আপনি যে পারবেন- সে প্রমাণ দিয়েই আপনি পৃথিবীতে এসেছেন। মাতৃগর্ভে একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্যে পিতার দেহ থেকে যে ৩০ থেকে ৫০ কোটি শুক্রাণু যাত্রা শুরু করেছিলো, আপনি হচ্ছেন সেই শুক্রাণুর বিকশিত রূপ, যে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে পেরেছিলো। ৩০/৫০ কোটির সাথে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছিলেন বলেই আপনি পৃথিবীতে আসতে পেরেছিলেন।
নিজের মনোদৈহিক প্রক্রিয়াকে একটু বুঝতে চেষ্টা করলেই এ আস্থা ও আত্মবিশ্বাস অনেকগুণ বেড়ে যাবে। নিজের দেহের কথাই ভাবুন। ৫ শতাধিক মাংসপেশী, ২ শতাধিক হাড়, ৭০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন দেহকোষ বা সেলের সমন্বয়ে গঠিত এই শরীরের প্রতিটি সেলে খাবার পৌঁছানোর জন্যে রয়েছে শিরা ও ধমনীর ৬০ হাজার মাইল দীর্ঘ পাইপ লাইন। আর আপনার হার্ট কোনোরকম ক্লান্তি বা প্রতিবাদ ছাড়াই প্রতিদিন এক লক্ষ বার স্পন্দনের মাধ্যমে ১৬ শত গ্যালনেরও বেশি রক্ত পাম্প করে দেহকে সচল রাখছে।
আপনি যদি নিজেকে মূল্যহীন মনে করে থাকেন, ভাবেন আহা অমুকের মতো যদি হতে পারতাম! তাহলে এর চেয়ে বড় ভ্রান্তি কিছুই হতে পারে না। কারণ আপনার মনোদৈহিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্রেন হচ্ছে যেকোনো কম্পিউটারের চেয়েও কমপক্ষে দশ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী। কম্পিউটারের দামের অনুপাতে আপনার ব্রেনের মূল্য কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা। আর আপনি জানেন যে, সভ্যতার সবকিছুর পেছনেই রয়েছে এই ব্রেনের ক্ষমতার সৃজনশীল প্রয়োগ। আর আপনি বিশ্বের ৬ শত কোটি মানুষের মধ্যে এক অনন্য সৃষ্টি। আপনার মতো হুবহু একইরকম দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার ব্রেনও তাই অনন্য।
তাই ক্লাসে ১ম হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে আপনি পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে পারবেন যদি আপনি বিশ্বাস করেন।
আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠছে সে। মাঝে মাঝে সে অনুভব করতো জোরে দৌড়াতে গিয়ে সে যেন খানিকটা ভেসেও যেতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে আর কোনো মাথা ঘামায় নি সে। একদিনের কথা। কোনো কারণে সব মুরগিছানারা মিলে তাড়া করলো তাকে। প্রাণপণে ছুটতে ছুটতে গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে এক হ্রদের ধারে গিয়ে থমকে গেল সে। এখন কী করবে সে? আর একটু এগোলেই যে হ্রদে পড়ে যাবে। কিন্তু সে তো কখনো পানিতে নামে নি। পেছানোরও কোনো উপায় নেই। এদিকে তার মা-মুরগিও পেছন পেছন ছুটে এসেছে। হঠাৎ দৃষ্টি গেল ঐ পাড়ের এক ঝাঁক হাঁসের দিকে। কি আশ্চর্য, হুবহু তার মতোই দেখতে! অবাক বিস্ময়ে সে একবার তাকাচ্ছে ঐ হাঁসদের দিকে, একবার তার মায়ের দিকে আর একবার হ্রদের পানিতে তার প্রতিবিম্বের দিকে। সে-তো তার মায়ের মতো নয়, নয় এতদিন যাদের সাথে কাটিয়েছে সেই মুরগিছানাদের মতো। বরং মেরুদেশ থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা ঐ পরিযায়ী পাখিদের একজন সে। শীর্তাত পরিবেশ থেকে বাঁচতে নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে উড়ে আসা এক মা-পাখির ডিম থেকে ঘটনাচক্রে তার জন্ম হয়েছিলো ঐ গৃহস্থের বাড়িতে। কী অবলীলায় হাসঁগুলো উড়ছে, জলে নামছে! সে-ও তো তাই পারে! বুঝলো সে এই তাড়া খাওয়া, আবর্জনা খুঁটে খাওয়ার জীবন তার নয়, নীল আকাশের উচুঁতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দেয়ার দৈহিক সামর্থ্য নিয়ে জন্মেছে সে।
প্রথমবারের মতো নিজেকে জানলো সে। বুঝলো গৃহস্থের উঠোনের ক্ষুদ্র গণ্ডি ছেড়ে তাকে উড়াল দিতে হবে অনন্ত আকাশে। দুফোঁটা চোখের জল ফেলে মা-মুরগিও তাকে বিদায় জানালো। কারণ ক্ষুদ্র মমতার বন্ধন দিয়ে সে তার ছানার সম্ভাবনাকে গণ্ডিবদ্ধ করতে চায় নি। নভোনীলিমায় ডানা মেলে দিলো হাঁসছানা আত্ম-আবিষ্কার আর আত্ম পরিচয় সৃষ্টির নতুন অভিযাত্রায়। এ হাঁসছানার জীবনের সঙ্গে আপনিও হয়তো মিল খুঁজে পাবেন। ছোটবেলায় হয়তো ভালো রেজাল্ট করতেন। কিন্তু একসময় খারাপ করার পর থেকে নিজেকে খারাপ ছাত্র-ছাত্রীদের দলেই মনে করতে লাগলেন আপনি। মা-বাবা শিক্ষক বা আত্মীয়-বন্ধুদের নেতিবাচক কথায় প্রভাবিত হয়ে হয়তো ভাবতে বসলেন, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। আর কখনো ভালো করতে পারবো না। অথচ আপনিও ক্লাসে প্রথম হতে পারেন, পারেন গোল্ডেন এ+ পেতে, পৃথিবীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে। পেশাজীবনে যেকোনো আপাত উঁচু লক্ষ্যে পৌঁছুতে। যুক্তিসঙ্গত প্রতিটি চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে। কীভাবে, তা-ই বিবৃত হয়েছে এখানে।
ভালো রেজাল্ট করাটা খুবই সহজ। করতে চাইলেই করা যায়। এজন্যে জিনিয়াস হওয়ার প্রয়োজন নেই। অসাধারণ মেধাবী বা শ্রুতিধর হওয়ার দরকার নেই। গণ্ডায় গণ্ডায় প্রাইভেট টিচার বা ভালো স্কুল কিংবা ধনী বাবা-মায়ের সন্তান হওয়াও ভালো রেজাল্টের শর্ত নয়। ভালো রেজাল্টের জন্যে প্রয়োজন মাত্র দুটি জিনিস। এক- আত্মবিশ্বাস, দুই- অদম্য ইচ্ছা।
বিশ্বাস হচ্ছে না? একটা উদাহরণ দেয়া যাক।
ড. বি আর আম্বেদকর। জন্ম ১৯ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক দলিত পরিবারের ১৪ নম্বর সন্তান হিসেবে। অস্পৃশ্য হওয়ায় স্কুলে তাকে বসতে হতো ক্লাসের বাইরে বারান্দায়। এমনকি তেষ্টা পেলে স্কুলের উচ্চবর্ণের দপ্তরীটি ছোঁয়া বাঁচিয়ে ওপর থেকে পানি ঢেলে না দেয়া পর্যন্ত পানি খাওয়ার অনুমতিটুকুও ছিলো না তার। এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে ১৯ মাইল দূরের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝপথে গাড়োয়ান তাকে গরুর গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছিলো অস্পৃশ্য হয়ে গাড়িতে ওঠার অপরাধে।
এতকিছুর পরও হার মানেন নি। দারিদ্র্য আর রোগ-শোকের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে যাওয়া মাত্র ৫ ভাইবোনের ১ জন ছিলেন তিনি এবং একমাত্র তিনিই পেরোন হাইস্কুলের গণ্ডি। ভারতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম দলিত সম্প্রদায়ের সদস্য যিনি কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ও লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে আইন ও অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রিসহ অর্জন করেন কয়েকটি ডক্টরেট।
দেশে ফিরে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীর পাশাপাশি তিনি হয়ে ওঠেন সমকালীন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। দলিত সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে জীবনকে উৎসর্গ করেন। স্বাধীন ভারতের সংবিধান প্রণয়নের গুরুদায়িত্ব পালন করেন উদার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যা অর্জন করে সবার সপ্রশংস সমর্থন।
বাবা আম্বেদকর নামে ভারতবর্ষে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বজনশ্রদ্ধেয়। প্রতিবছর তার জন্ম, মৃত্যুদিবসে হাজারো মানুষ সমবেত হয় তার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবার উদ্দেশ্যে।
আপনার অবস্থা নিশ্চয়ই বাবা আম্বেদকরের চেয়ে খারাপ নয়। তাহলে আপনি কেন পারবেন না?
আপনি যে পারবেন- সে প্রমাণ দিয়েই আপনি পৃথিবীতে এসেছেন। মাতৃগর্ভে একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্যে পিতার দেহ থেকে যে ৩০ থেকে ৫০ কোটি শুক্রাণু যাত্রা শুরু করেছিলো, আপনি হচ্ছেন সেই শুক্রাণুর বিকশিত রূপ, যে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে পেরেছিলো। ৩০/৫০ কোটির সাথে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছিলেন বলেই আপনি পৃথিবীতে আসতে পেরেছিলেন।
নিজের মনোদৈহিক প্রক্রিয়াকে একটু বুঝতে চেষ্টা করলেই এ আস্থা ও আত্মবিশ্বাস অনেকগুণ বেড়ে যাবে। নিজের দেহের কথাই ভাবুন। ৫ শতাধিক মাংসপেশী, ২ শতাধিক হাড়, ৭০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন দেহকোষ বা সেলের সমন্বয়ে গঠিত এই শরীরের প্রতিটি সেলে খাবার পৌঁছানোর জন্যে রয়েছে শিরা ও ধমনীর ৬০ হাজার মাইল দীর্ঘ পাইপ লাইন। আর আপনার হার্ট কোনোরকম ক্লান্তি বা প্রতিবাদ ছাড়াই প্রতিদিন এক লক্ষ বার স্পন্দনের মাধ্যমে ১৬ শত গ্যালনেরও বেশি রক্ত পাম্প করে দেহকে সচল রাখছে।
আপনি যদি নিজেকে মূল্যহীন মনে করে থাকেন, ভাবেন আহা অমুকের মতো যদি হতে পারতাম! তাহলে এর চেয়ে বড় ভ্রান্তি কিছুই হতে পারে না। কারণ আপনার মনোদৈহিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্রেন হচ্ছে যেকোনো কম্পিউটারের চেয়েও কমপক্ষে দশ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী। কম্পিউটারের দামের অনুপাতে আপনার ব্রেনের মূল্য কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা। আর আপনি জানেন যে, সভ্যতার সবকিছুর পেছনেই রয়েছে এই ব্রেনের ক্ষমতার সৃজনশীল প্রয়োগ। আর আপনি বিশ্বের ৬ শত কোটি মানুষের মধ্যে এক অনন্য সৃষ্টি। আপনার মতো হুবহু একইরকম দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার ব্রেনও তাই অনন্য।
তাই ক্লাসে ১ম হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে আপনি পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে পারবেন যদি আপনি বিশ্বাস করেন।
দৃষ্টিভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে
গত
শতাব্দীর শীর্ষস্থানীয় দার্শনিক এবং
মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস
খুব সুন্দরভাবে বলেছেন,
আমার প্রজন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো,
দৃষ্টিভঙ্গি বদলে একজন
মানুষ পারে তার
জীবনকে বদলে ফেলতে। এ
কথার সত্যতা সম্বন্ধে এখন
বিজ্ঞানীমহলেও
মিলছে সমর্থন। নিউরোসায়েন্টিস্টরা বলেন,
মানুষের মস্তিষ্কের রয়েছে
যেকোনো চিন্তাকে বাস্তবায়িত করার
এক অসাধারণ ক্ষমতা। মন
ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক নিয়ে
দশকের পর দশকব্যাপী গবেষণার ওপর
ভিত্তি করে গড়ে
উঠেছে সাইকোনিউরো-ইমিউনলজি নামে
বিজ্ঞানের নতুন শাখা
।
এ
বিষয়ে ডা. অ্যালেন গোল্ডস্টেইন, ডা.
জন মটিল, ডা.
ওয়াইল্ডার পেনফিল্ড ও
ডা. ই রয়
জন দীর্ঘ গবেষণার পর
বলেছেন, একজন প্রোগ্রামার যেভাবে
কম্পিউটারকে পরিচালিত করে,
তেমনি মন মস্তিষ্ককে পরিচালিত করে।
মস্তিষ্ক হচ্ছে হার্ডওয়ার আর
মন হচ্ছে সফটওয়ার। নতুন
তথ্য ও নতুন
বিশ্বাস মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন
ডেনড্রাইট সৃষ্টি করে।
নতুন সিন্যাপসের মাধমে
তৈরি হয় সংযোগের নতুন
রাস্তা। বদলে যায়
মস্তিষ্কের কর্মপ্রবাহের প্যাটার্ন। মস্তিষ্ক তখন
নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে
নতুন বাস্তবতা উপহার
দেয়। নতুন বাস্তবতা ভালো
হবে না খারাপ
হবে, কল্যাণকর হবে
না ক্ষতিকর হবে
তা নির্ভর করে
মস্তিষ্কে দেয়া তথ্য
বা প্রোগ্রাম এর
ভালো-মন্দের উপর।
কল্যাণকর তথ্য ও
বিশ্বাস কল্যাণকর বাস্তবতা সৃষ্টি
করে আর ক্ষতিকর তথ্য
বা বিশ্বাস ক্ষতিকর বাস্তবতা উপহার
দেয়। তাই নিঃসন্দেহে বলা
যায়, জীবনের নতুন
বাস্তবতার চাবিকাঠি হচেছ
দৃষ্টিভঙ্গি বা নিয়ত।
বিজ্ঞানীরা বলেন
দৃষ্টিভঙ্গি দু’ধরনের।
১) প্রো-অ্যাকটিভ। ২) রি-অ্যাকটিভ।
জীবনকে বদলাতে হলে একজন মানুষকে জানতে হবে রিএকটিভ নয়, প্রো-একটিভ দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে হবে। একজন প্রোএকটিভ মানুষের বৈশিষ্ট্য ৩ টি :
তারা উত্তেজিত বা আবেগপ্রবণ না হয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত ও প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তারা কি কি নেই তা নিয়ে হা হুতাশ না করে যা আছে তা নিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করেন। তারা সাময়িক ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েন না।
জীবনকে বদলাতে হলে একজন মানুষকে জানতে হবে রিএকটিভ নয়, প্রো-একটিভ দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে হবে। একজন প্রোএকটিভ মানুষের বৈশিষ্ট্য ৩ টি :
তারা উত্তেজিত বা আবেগপ্রবণ না হয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত ও প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তারা কি কি নেই তা নিয়ে হা হুতাশ না করে যা আছে তা নিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করেন। তারা সাময়িক ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েন না।
নিচের গল্পটি পড়ুন:
বাবা,ছেলে ও গাধা
বাবা
ও ছেলে বিশেষ
প্রয়োজনে বাড়ির পোষা
গাধাটিকে বিক্রি করার
জন্যে হাটের পথে
যাত্রা শুরু করল।
বাবা,ছেলে ও
গাধা তিনজনই হেঁটে
যাচ্ছে। কিছুদূর যাওয়ার পর
তাদেরকে দেখে একজন
বললৈা দুটো কি
বোকা। গাধা থাকতে
হেঁটে যচ্ছে। একজন
তো গাধার পিঠে
উঠে আরাম করে
যেতে পারে। বাবা
ছেলে গাধার পিঠে
উঠিয়ে দিলেন। ছেলে
গাধার পিঠে আর
বাবা হেঁটে চলছেন।
কিছুদূর যাওয়ার পর
আরেকজন বলল,কী
বেয়াদব ছেলে। নিজে
গাধার পিঠে আরাম
করে যাচ্ছে আর
বুড়ো বাপকে হাঁটিয়ে নিয়ে
যাচ্ছে। এ মন্তব্য শোনার
পর বাবা ও
ছেলে স্থান পরিবর্তন করলো।
বাবা গাধার পিঠে
আর ছেলে হেঁটে।। আরও
কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার
পর আরেক ব্যাক্তি মন্তব্য করল,কী নিষ্ঠুর পিতা।
নিজে গাধার পিঠে
আরাম করছে আর
মাসুম বাচ্চাটাকে হাঁটিয়ে নিয়ে
যাচ্ছে। এ মন্তব্য শোনার
পর বাবা ও
ছেলে দু’জনই
গাধার পিঠে উঠল।
গাধা চলতে শুরু
করল। কিছুদূর অগ্রসর
হওয়ার পর একজন
পশুপ্রেমিকের নজরে পড়ল
তারা। পশুপ্রেমিক তাদের
দেখে আক্ষেপ করে
বলতে শুরু করল,কী অত্যাচার! কী
অবিচার! একটি গাধা
তার উপর দুটি
লোক!
বাবা
ও ছেলে পড়ল
সমস্যায়। কী মুশকিল!
গাধার সাথে হেঁটে
গেলে দোষ। ছেলে
উঠলে দোষ! বাবা
উঠলে দোষ! দু’জন উঠলে
দোষ! এখন কি
করা যায়?বাবা
ছেলে দুজন মিলে
নতুন এক বুদ্ধি
বের করল। বাঁশ
ও রশি জোগাড়
করল। গাধার চার
পা ভালো করে
বাঁধল। তারপর পায়ের
ফাঁক দিয়ে বাঁশ
ঢুকিয়ে দিল। বাবা
সামনে আর ছেলে
পিছনে বাঁশ কাঁধে
নিয়ে হাঁটতে শুরু
করল। গাধা রইল
ঝুলে। গাধাকে কাঁধে
নিয়ে পুল পার
হওয়ার সময় গাধা
ভয় পেয়ে চিৎকার করে
নড়ে উঠল। বাব,ছেলে ও
গাধা পড়ে গেল
খালে। গাধার মেরুদণ্ড ভাঙ্গল। বাবা
ও ছেলের ভাঙ্গল
পা। গাধা আর
বেচা হলো না।
বাবা ও ছেলে
আহত অবস্থায় ফিরে
এল ঘরে।
এই বাবা-ছেলে হলেন রি-অ্যাকটিভ। রি-অ্যাকটিভ হলে নিয়ন্ত্রণ তখন নিজের হাতে থাকে না। নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্যের হাতে। আপনি যখন অন্যের কথায় কষ্ট পান, অন্যের কথায় রেগে যান, অন্যের আচরণে ক্রোধে ফেটে পড়েন, অন্যের তোষামোদিতে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন, অন্যের চাটুকারিতায় গলে যান, অন্যের কথায় নাচেন, তখন নিয়ন্ত্রণ আর আপনার হাতে থাকে না। নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্যের হাতে। গল্পের এ বাবা-ছেলের মতোই রি-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় ব্যর্থতা, হতাশা ও অশান্তি সৃষ্টি করে।
এই বাবা-ছেলে হলেন রি-অ্যাকটিভ। রি-অ্যাকটিভ হলে নিয়ন্ত্রণ তখন নিজের হাতে থাকে না। নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্যের হাতে। আপনি যখন অন্যের কথায় কষ্ট পান, অন্যের কথায় রেগে যান, অন্যের আচরণে ক্রোধে ফেটে পড়েন, অন্যের তোষামোদিতে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন, অন্যের চাটুকারিতায় গলে যান, অন্যের কথায় নাচেন, তখন নিয়ন্ত্রণ আর আপনার হাতে থাকে না। নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্যের হাতে। গল্পের এ বাবা-ছেলের মতোই রি-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় ব্যর্থতা, হতাশা ও অশান্তি সৃষ্টি করে।
প্রো-অ্যাকটিভ অর্থ
হচ্ছে যে কোন
পরিস্থিতিতে উত্তেজিত বা
আবেগপ্রবণ না হয়ে
ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা-ভাবনা করে
সিদ্ধান্ত ও প্রদক্ষেপ গ্রহণ।
প্রো-অ্যাকটিভ অর্থ
হচ্ছে অন্যের কাজের
প্রতিক্রিয়া হিসেবে কোন
কাজ বা আচরণ
না করা। সর্বাবস্থায় নিজের
লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আচরণ
ও কর্মপন্থা অবলম্বন করা।
প্রো-অ্যাকটিভ অর্থ
হচ্ছে কি কি
নেই তা নিয়ে
হা-হুতাশ না
করে যা আছে
তা নিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে কাজ
শুরু করা। প্রো-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়
সাফল্য ও বিজয়
ছিনিয়ে আনে।
প্রো-অ্যাকটিভ মানুষই অন্যকে প্রভাবিত করে, পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে। এই জন্যেই মহামানবরা সবসময় প্রো-অ্যাকটিভ ছিলেন। নবীজী (স.)-র জীবন দেখুন। তিনি সবসময় প্রো-অ্যাকটিভ ছিলেন। ফলে প্রভাবিত করতে পেরেছেন সবাইকে।
প্রো-অ্যাকটিভ মানুষই অন্যকে প্রভাবিত করে, পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে। এই জন্যেই মহামানবরা সবসময় প্রো-অ্যাকটিভ ছিলেন। নবীজী (স.)-র জীবন দেখুন। তিনি সবসময় প্রো-অ্যাকটিভ ছিলেন। ফলে প্রভাবিত করতে পেরেছেন সবাইকে।
এক
বৃদ্ধা প্রতিদিন নবীজী
(সা.)-র পথে
কাঁটা বিছিয়ে রাখত।
উদ্দেশ্য নবীজীকে কষ্ট
দেয়া। নবীজী প্রতিদিন কাঁটা
সরিয়ে পথ চলতেন।
যাতে অন্যের পায়ে
কাঁটা না বেঁধে।
একদিন পথে কাঁটা
নেই। দ্বিতীয় দিনও
পথে কাঁটা নেই।
নবীজী ভাবলেন, একদিন
হয়তো ভুল করে
বৃদ্ধা কাঁটা বিছায়
নি। দুই দিন
তো ভুল হতে
পারে না। নিশ্চয় বৃদ্ধা
অসুস্থ। তিনি খোঁজ
নিলেন। বৃদ্ধা ঠিকই
গুরুতর অসুস্থ। আমরা
হলে হয়তো বলতাম,
‘বেটি বুড়ি আমার
পথে কাঁটা বিছিয়েছিস! আল্লাহ
তোকে উপযুক্ত শাস্তি
দিয়েছে।’ কিন্তু নবীজী
বৃদ্ধার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ
করলেন। তার চিকিৎসা ও
সেবা শুশ্রূষার ব্যবস্থা করলেন।
বৃদ্ধা সুস্থ হয়ে
উঠলেন।
সুস্থ
হওয়ার পর বৃদ্ধার মনে
প্রশ্ন জাগল, যাদের
কথায় নবীর পথে
কাঁটা বিছিয়েছি তারা
তো কেউ আমাকে
দেখতে আসে নি।
বরং যাকে কষ্ট
দেয়ার জন্যে কাঁটা
বিছিয়েছি তিনিই আমার
সেবা শুশ্রূষার ব্যবস্থা করলেন।
মানুষ হিসেবে নবীজীই
ভাল মানুষ। বৃদ্ধা
নবীজীর ধর্ম গ্রহণ
করলেন। নবীজী প্রো-অ্যাকটিভ ছিলেন
বলেই বৃদ্ধাকে প্রভাবিত করতে
পেরেছিলেন। বৃদ্ধা যা-ই করুক
না কেন, বৃদ্ধার আচরণ
দ্বারা নবীজী প্রভাবিত হন
নি। নবীজী বৃদ্ধার সাথে
সেই আচরণই করেছেন,
যা তিনি সঙ্গত
মনে করেছেন। সে
কারণেই বিরুদ্ধাচরণকারী বৃদ্ধা
নবী অনুরাগীতে রূপান্তরিত হলো।
তারা
কি কি নেই
তা নিয়ে হা
হুতাশ না করে
যা আছে তা
নিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে কাজ
করেন।
এক
ছিলো বুড়ি। তার
দুটিই মেয়ে। বড়
মেয়ের জামাই একজন
ছাতা বিক্রেতা। আর
ছোট মেয়ের জামাই
সেমাই বানিয়ে বিক্রি
করে। এই বুড়িকে কেউ
কখনো হাসতে দেখেনি। সারাক্ষণই সে
শুধু কাঁদতো। যখন
রোদেও দিন তখন
বড় মেয়ের কথা
মনে করে। আর
বৃষ্টির দিনে ছোট
মেয়ের কথা মনে
করে। কারণ রোদ
হলে বড় মেয়ের
জামাইয়ের ছাতার বিক্রি
তেমন ভালো হয়
না। আর গ্রীষ্ম ফুরিয়ে বৃষ্টির দিন
যখন আসে তখন
আবার ছোট মেয়ের
জামাইয়ের ব্যবসায় মন্দা
যায়। দুই মেয়ের
কথা ভেবে রোদ
বা বর্ষা কোনোসময়ই তার
কোনো সুখ ছিলো
না।
একদিন
এক সাধুর সাথে
তার দেখা হলো।
সাধু যখন জানতে
চাইলেন সে কেন
এভাবে সবসময় কাঁদে।
সে ঘটনা বললো।
সাধু বললেন, এখন
থেকে তুমি তোমার
চিন্তাটাই বদলে ফেলো।
রোদেও দিন তুমি
তোমার বড় মেয়ের
কথা ভাববে না।
ভাববে ছোট মেয়ের
কথা। কত সুন্দর
করে সে এই
চমৎকার রোদে
সেমাই শুকোচ্ছে। আর
গ্রীষ্ম শেষে যখান
বর্ষা আসবে, ভাববে
বড় মেয়ের কথা।
যে এখন দেদারসে ছাতা
বিক্রি করছে। তখন
ছোটমেয়ের কথা মনে
করার দরকার নেই।
বুড়ি
তাই করলো। সমাধানও হয়ে
গেলো তাড়াতাড়ি। এখন
আর তাকে কাঁদতে
হয় না। সাময়িক ব্যর্থতায় তারা
ভেঙে পড়েন না
২১
বছর বয়সে তিনি
ব্যবসায়ে লস করেন।
২২ বছর বয়সে
তিনি রাজনীতিতে পরাজিত
হন। ২৩ বছর
বয়সে আবারও ব্যবসায়ে লস
করেন। ২৬ বছর
বয়সে হারান প্রিয়তমা স্ত্রীকে ।
২৭ বছর বয়সে
তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়।
৩৪ বছর বয়সে
কংগ্রেস নির্বাচনে হেরে
যান। ৪৫ বছর
বয়সে সিনেট নির্বাচনে হেরে
যান। ৩৭ বছর
বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার
সুযোগ হাতছাড়া হলো।
৪৯ বছর বয়সে
আবারও সিনেট নির্বাচনে পরাজিত
হন। এবং ৫২
বছর বয়সে তিনি
হন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। এতগুলো হারের পরও যিনি কখনো ভাবেন নি, রাজনীতি আমার জন্যে নয়। আর তাইতো তিনি হতে পেরেছিলেন আমেরিকার সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত প্রেসিডেন্টদের একজন।
সফল মানুষদের জীবনে বাধা বা প্রতিক্থলতা নেই, এ কথাটি ঠিক নয়। বরং তাদের জীবনে বাধা বা সমস্যা সাধারণ মানুষদের চেয়েও বেশি এবং বিচিত্রতর। কিন্তু তাদের তফাৎ হচ্ছে তারা কখনো বাধার মুখে ভেঙে পড়েন না। বাধাটাকে জয় করেন।
আসলে কোনো পরাজয়ই পরাজয় নয় যদি তা মানসিকভাবে আপনাকে পরাজিত করতে না পারে। প্রোএকটিভ মানুষেরা এ সত্যটিই উপলব্ধি করেন এবং সাময়িক ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে কাজ করে যান। ফলে তারা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেন।
তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। এতগুলো হারের পরও যিনি কখনো ভাবেন নি, রাজনীতি আমার জন্যে নয়। আর তাইতো তিনি হতে পেরেছিলেন আমেরিকার সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত প্রেসিডেন্টদের একজন।
সফল মানুষদের জীবনে বাধা বা প্রতিক্থলতা নেই, এ কথাটি ঠিক নয়। বরং তাদের জীবনে বাধা বা সমস্যা সাধারণ মানুষদের চেয়েও বেশি এবং বিচিত্রতর। কিন্তু তাদের তফাৎ হচ্ছে তারা কখনো বাধার মুখে ভেঙে পড়েন না। বাধাটাকে জয় করেন।
আসলে কোনো পরাজয়ই পরাজয় নয় যদি তা মানসিকভাবে আপনাকে পরাজিত করতে না পারে। প্রোএকটিভ মানুষেরা এ সত্যটিই উপলব্ধি করেন এবং সাময়িক ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে কাজ করে যান। ফলে তারা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেন।
সুতরাং
আপনি যেখানে আছেন
সেখান থেকেই শুরু
করুন। যা আছে
তা নিয়েই শুরু
করুন। সাময়িক ব্যর্থতায় মুষড়ে
পড়বেন না। নেতিবাচক লোকদের
কথায় প্রভাবিত হবেন
না। আপনি জয়ী
হবেনই।
Subscribe to:
Posts (Atom)

